নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া প্রস্তুতিতে পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, "এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উই আর ভেরি হ্যাপি। তবে আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা। আগামীর এক সপ্তাহ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা ক্রুশিয়াল।"
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার এসব বার্তার কথা জানান তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের পর থেকে এই ভূখণ্ডে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বারবার অঙ্কুরিত হয়েছে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়—প্রতিটি স্তরেই জনগণের ভোটাধিকার ছিল সংগ্রামের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তবে নির্বাচনের সময় কটু কথা, সহিংসতা এবং পেশিশক্তির ব্যবহার ছিল আমাদের রাজনীতির এক কলঙ্কিত অধ্যায়।
প্রধান উপদেষ্টা এবারের নির্বাচনী প্রচারণার একটি বিশেষ দিক উল্লেখ করে বলেন, "সারা দেশে অত্যন্ত উৎসাহ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চলছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, কেউ কারোর বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না; কোনো অভদ্র আচরণ বা শব্দ ব্যবহার হচ্ছে না। এটি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন।" ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ১২৬ বছরের ইতিহাসে এমন মার্জিত নির্বাচনী সংস্কৃতি ইতিপূর্বে খুব কমই দেখা গেছে।
সারাদেশে প্রচারণার পাশাপাশি কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের চিত্রও দেখা গেছে। সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের জনসভায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ‘নতুন বাংলাদেশের বন্দোবস্ত’-এর ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি ও ছাত্রদলের অন্তত ২৭ জন নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ঠাকুরগাঁও জিলা স্কুল মাঠে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল জয়ের নয়, বরং দেশ পুনর্গঠনের লড়াই। পরে দিনাজপুরের বিরামপুরে তার নানাবাড়ির এলাকায় এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং লিচু ও চাল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সারাদেশে ১ লাখের বেশি সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ৫ শতাধিক ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্র মনিটর করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা প্রদান করা, যাতে এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকে।
বিগত ১৬ বছরের অচলায়তন ভেঙে ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লবে জনগণ তাদের রায় দেওয়ার অপেক্ষায়। প্রধান উপদেষ্টার মতে, এই এক সপ্তাহ রাজনৈতিক দল ও প্রশাসন—উভয়কেই সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে।
সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেসক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সেল।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি মূলত ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির একটি চিত্র। ড. ইউনূসের বক্তব্যে যে ‘ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তনের’ কথা উঠে এসেছে, তা ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া গত এক শতাব্দীর তিক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে এক নতুন আশার বাণী। প্রযুক্তি ও শান্তির সমন্বয়ে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে যাচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |